বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুটের লড়াই: এমবাপেকে টপকে কীভাবে জিততে পারেন মেসি? বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই শিরোপা জয়ের উত্তেজনা। তবে এবারের ফাইনালে দলগত ...

বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুটের লড়াই: এমবাপেকে টপকে কীভাবে জিততে পারেন মেসি?

 
বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুটের লড়াই: এমবাপেকে টপকে কীভাবে জিততে পারেন মেসি?

বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুটের লড়াই: এমবাপেকে টপকে কীভাবে জিততে পারেন মেসি?

বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই শিরোপা জয়ের উত্তেজনা। তবে এবারের ফাইনালে দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত একটি বড় পুরস্কারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সেটি হলো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া গোল্ডেন বুট। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সামনে এখন শুধু বিশ্বকাপ জেতার সুযোগই নয়, ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এর আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার রোমাঞ্চকর ১০ গোলের লড়াই শেষ হয় ৬-৪ ব্যবধানে ইংলিশদের জয়ে। যদিও দল হেরেছে, ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে জোড়া গোল করে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেছেন। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আপাতত তিনিই শীর্ষে অবস্থান করছেন।

ফাইনালের আগে গোল্ডেন বুটের শীর্ষ পাঁচ


  • কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স): ১০ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট (৭৬৪ মিনিট)
  • লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট (৭১২ মিনিট)
  • ওসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৭ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
  • জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): ৭ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

  • আরলিং হালান্ড (নরওয়ে): ৭ গোল, কোনো অ্যাসিস্ট নেই


ফিফার নিয়ম কী বলছে?


গোল্ডেন বুট নির্ধারণে শুধু গোলসংখ্যাই বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফিফা নির্দিষ্ট কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে বিজয়ী নির্বাচন করে।
প্রথমে দেখা হয় মোট গোলসংখ্যা। যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোল সমান হয়, তাহলে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়। গোল ও অ্যাসিস্ট—দুটিই সমান থাকলে যে খেলোয়াড় কম মিনিট খেলেছেন, তিনিই এগিয়ে থাকেন।
এই নিয়মের কারণেই ফাইনালে মেসির সামনে একাধিক সম্ভাবনার দরজা খোলা রয়েছে।

কী করলে গোল্ডেন বুট জিতবেন মেসি?

যদি একটি গোল করেন

মেসি যদি ফাইনালে কেবল একটি গোলের দেখা পান, তবে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াবে ৯-এ। এই সমীকরণে এমবাপের ১০ গোলকে টপকানো তার পক্ষে সম্ভব হবে না, ফলে বুটের রেস থেকে তাকে ছিটকে যেতে হবে

যদি দুই গোলের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্টও করেন

মেসির জন্য আরেকটি দারুণ সুযোগ হতে পারে জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করা। এতে দুজনের গোল সংখ্যা ১০-এ সমতা আসলেও, মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা বেড়ে হবে ৫টি (এমবাপের ৪টি)। ফলে বেশি অ্যাসিস্টের কল্যাণে টাইব্রেকারে সরাসরি জয়ী হবেন এলএমটেন (LM10)।

যদি হ্যাটট্রিক করেন

এটাই সবচেয়ে সহজ সমাধান। তিন গোল করলে মেসির মোট গোল হবে ১১টি। তখন আর কোনো টাইব্রেকারের প্রয়োজন হবে না। গোলসংখ্যাতেই এমবাপেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট জিতে নেবেন তিনি।

শিরোপার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইতিহাস গড়ার সুযোগ


বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য চতুর্থ শিরোপা জয়। একই সঙ্গে মেসির সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়ার সুযোগ। তবে ব্যক্তিগত দিক থেকেও ম্যাচটি তার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিশ্বকাপে দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও এখনো গোল্ডেন বুট জেতা হয়নি তার।

ফাইনালে যদি তিনি প্রয়োজনীয় গোল করতে পারেন, তাহলে এক ম্যাচেই দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারে যোগ করতে পারবেন আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ অর্জন। তাই স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচটি শুধু একটি ফাইনাল নয়, বরং মেসির ব্যক্তিগত ইতিহাস রচনারও মঞ্চ।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাই এখন নজর থাকবে দুটি লড়াইয়ে—একদিকে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপার দ্বৈরথ, অন্যদিকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি আদৌ কিলিয়ান এমবাপেকে টপকে যেতে পারেন কি না। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই ফাইনাল তাই হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চ, পরিসংখ্যান এবং ইতিহাস গড়ার এক অনন্য উপলক্ষ।

0 comments: